ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্বনাথ

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৩, ২০১৬ ৭:৫৫ অপরাহ্ণ

ক্রীড়াঙ্গনে জাতীয় পর্যায়েও অবদান রাখার কৃতিত্ব বিশ্বনাথ বাসীর রয়েছে। ১৯৮৭-৮৮ সালে বিশ্বনাথের লামাকাজি ইউনিয়নের দিঘলী গ্রামের কৃতি সন্তান নাইম আশফাক চৌধুরী (বর্তমানে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) জাতীয় এ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় দুই বারই রুপ্য পদক লাভ করেন এবং তিনি ১৯৯৩ সালে জাতীয় এ্যাথলেটিকস দলের কোচ হিসেবে ক্রীড়া ক্ষেত্রে গরুত্বপূর্ন অবদান রাখেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক ছিলেন দেওকলস ইউনিয়নের কামিল নগর গ্রামের মরহুম ইফতেখার হোসেন শামীম। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন ও ঢাকা ব্রার্দাস ইউনিয়নের সহ সভাপতি পদে ছিলেন বিশ্বনাথের কৃতি সন্তান জনাব আলহাজ্ব রাগীব আলী।

বিশ্বনাথের দামাল ছেলেরা জেলা বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে অনেকে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে দেশবাসীর কাছে এই জনপদের নাম অনেক উজ্জ্বল করেছেন। ১৯৮১ সালে রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ের হয়ে বিশ্বনাথ ইউনিয়নের কারিকোনা গ্রামের জনাব আব্দুল কাদির রানু, শাহজিরগাঁও গ্রামের জনাব আব্দুল জলিল, দন্ডপানিপুর গ্রামের জনাব রফিক মিয়া, মিরেরচর গ্রামের জনাব ফারুক আহমদ, চৌধুরীগাঁও গ্রামের জনাব সফিক মিয়া, দেওকলস ইউনিয়নের সুদুরগাঁও গ্রামের আব্দুল কাদিও, শওকত আলী, নাছির আলী, দেওকলস ইউনিয়নের মইজপুর গ্রামের সত্যেন্দ্র পাল ও আব্দুল মছব্বির, অলংকারী ইউনিয়নের টুকেরকান্দি গ্রামের জনাব আব্দুল ওয়াহিদ জাতীয় ভিত্তিক কাবাডি প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মত রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

১৯৮৩ সালে ভলিবল খেলায় রামসুন্দর হাই স্কুলের ছাত্ররা জেলা চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০০৪ সালে আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টে বিশ্বনাথের ছেলেরা চ্যাম্পিয়ান, ২০০৩ সালেও আন্তঃজেলা স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে ও ১৯৯৯ সালে আন্তঃজেলা হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় রামসুন্দর হাই স্কুলের ছেলেরা রানার্সআপ হয়। এছাড়া ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্স, সুইমিং, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, কেরাম ও দাবা প্রতিযোগিতায় প্রতি বৎসর বিশ্বনাথের ছেলেরা জাতীয় এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার টুর্নামেন্ট ও লীগসমূহে অংশ নিয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে।

অন্যদিকে, বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের প্রতি বিশ্বনাথের তরুণ-কিশোরদের অংশগ্রহণ আজ বিশ্বনাথের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শুধু তাই নয়, ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশের কোন উপজেলা এমনকি জেলা পর্যায়ে যে কাজ কোনো ক্রীড়া সংগঠন করতে পারেনি সেটাই করে দেখিয়েছে বিশ্বনাথের ক্রিকেটানুরাগীরা। তারা ২০০১ সালে বিশ্বনাথের ক্রিকেটের হালচাল ২৬টি ক্রিকেট দল ও খেলোয়াড়দের পরিচিতিমূলক ২৩২ পৃষ্টার একটি স্মারক ‘‘বাসিয়া পারের ক্রিকেট’’ ১ম বার্ষিকী মোহাম্মদ কয়েছ আলীর সম্পাদনায় ও ২০০২ সালে ২য় বার্ষিকী ১৯২ পৃষ্টার ‘‘বাসিয়া পারের ক্রিকেট’’ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, মোহাম্মদ কয়েছ আলী, মোঃ খালেদ খান ও প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপুর যৌথ সম্পাদনায় এবং ২০০৫সালে ‘‘বাসিয়া পারের ক্রিকেট’’ ৩য় বার্ষিকী প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপুর সম্পাদনায় ৮০ পৃষ্ঠার স্মারক প্রকাশ করে সারাদেশের ক্রিকেটবোদ্ধাদের তাক লাগিয়ে দেয়। যা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বনাথের নতুন প্রজন্ম আজ ক্রিকেটের ব্যাট-বলের তীব্র লড়াই করছে বিশ্বনাথের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রতি বৎসর এখানে নিয়মিতভাবে বেশ কটি টুর্নামেন্ট ও লীগ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

অন্যান্য সংবাদ