১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথের খাজাঞ্চী ইউনিয়নে অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান শিতুলী দেবীর মন্দির

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর - ২৯ - ২০১৬ | ৯: ৫৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 179 বার পঠিত

অবস্থান :  বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের তেলীকোনা গ্রামের দক্ষিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র একটি স্থান শিতুলী দেবীর মন্দিরটি অবস্থিত । উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে রাজাগঞ্জ বাজারের অবস্থান । এই বাজার থেকে যে কোন ধরনের গাড়ী যোগে ১ কিলোমিটার দূরে তেলীকোনা গ্রাম হয়ে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে খাজাঞ্চী নদীর পার্শ্ববর্তী স্থানে শিতুলী দেবীর মন্দিরটি অবস্থিত ।

শিতুলী দেবীর মন্দির : শিতুলী দেবীর মন্দির হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে একটি তীর্থস্থান।স্থানীয় জনসাধারণের কাছে এ জায়গাটি পুনির পার নামে ব্যাপক পরিচিত । একদা মন্দিরের এক ব্রাম্মন উক্ত স্থানে মাঠির ঘরের পরিবর্তে মন্দিরের জন্য একটি পাকা ঘর নির্মান করেছিলেন । কিন্তু সময়ের পথ পরিক্রমায় সেই পাকা মন্দিরের আজ জরাজীর্ণ অবস্থা এবং মন্দির এলাকা এখন আর পূর্বের মত জঙ্গল ঘেরা নয়। তথাপি মন্দিরের প্রতি মানুষের আকর্ষন একটু কমেনি। প্রতি চৈত্র মাসের শনি ও মঙ্গলবার এ মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এ সময় ধর্মপ্রান হিন্দুরা তাদের মানতকৃত ছাগল ও কবুতর এখানে নিয়ে আসেন দেবীর উদ্দেশে বলি দেওয়ার জন্য । এ সময় পুজা উপলক্ষে মন্দিরের পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে মেলা বসে । বিক্রেতারা তখন মেলায় গ্রামীন কুটির ও হস্তশিল্পের রকমারী পণ্যসামগ্রী ছাড়াও বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী নিয়ে আসেন । সে কারণে পুজা ও মেলা উপলক্ষে এলাকায় সাজ সাজ ভাব দেখা যায় ।

ব্রাম্মনের পদার্পণ : পুজার পূর্বে মন্দিরে ব্রাম্মনের পদার্পণ ঘঠে। মেলার প্রায় ১৫ দিন পূর্বে অর্থাৎ ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় ব্রাম্মন মন্দিরে এসে মন্দির এলাকা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করান । মন্দির এলাকার এক পাশে মুর্তি রাখার জন্য ঘর নির্মান করেন এবং চতুর পাশে বাঁশ দিয়ে বেড়া তৈরী করেন এবং লাল নিশানা লাগানো হয় ।

ছাগল ও কবুতর বলি : শিতুলী দেবীর মন্দিরে ধর্মপ্রাণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের মানত করা পাঠা ( ছাগল ) ও কবুতর ব্রাম্মন নিজ হাতে বলি দেন। এর জন্য ব্রাম্মনকে প্রায় ৮।১০ কেজি ওজনের ও প্রায় ৫ ফুট লম্বা ইস্পাতের তৈরী দা ব্যবহার করতে হয় ।এজন্য মানতকারীরা তাদের মানতকৃত পাঠার মাথা ও নগদ টাকা ব্রাম্মনকে উপহার দেন। ধর্মপ্রাণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকের ধারনা শিতুলী দেবীর উদ্দেশ্যে মানত করলে চিতলা বা গুটি বসন্ত হয়না এবং বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ।

দুধ খেকো কালো পাথর : শিতুলী দেবীর মন্দিরে একটি বিশাল আকৃতির কালো পাথর ছিল । লোকজন তাদের গাভী, মহিষ ও ছাগলের প্রথম দুধ শিতুলী দেবীর উদ্দেশ্যে মানত করে কালো পাথরের উপর ছেড়ে দিতেন। পাথর তখন দুধগুলো চুষে ফেলত। আজ থেকে প্রায় দশ বছর পূর্বে পুজা অনুষ্ঠানের পর সেই যে পাথরটি হারিয়ে গিয়েছিল তারপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই পাথরটি কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে, না সে নিজেই হারিয়ে গেছে এ সম্পর্কে স্থানীয় কেউই সঠিক করে কিছু বলতে পারেননি ।

প্রসাদ নিয়ে বাড়ী ফেরা : শিতুলী দেবীর মন্দিরে পুজার সময় হিন্দু মহিলারা কলাগাছের ডাগলা দিয়ে ভেলা তৈরী করে তাতে পান , সুপারি , ফুল, শসা, পেপে, কলা, খৈ , চিড়া নিয়ে এসে রুপসী গাছে রাখেন এবং এরপর পুজা অর্চনা শেষে এগুলো ব্রাম্মনের হাতে তুলে দেন। ব্রাম্মন এর অগ্রভাগ দেবতার কাছে নিবেদনের পর বাকীগুলো মহিলাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। মহিলারা আনন্দ চিত্তে এসব প্রসাদ হিসেবে বাড়ীতে নিয়ে যান এবং ছেলে বুড়ো সবাইকে খেতে দেন।