১৯শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং | ৬ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আলহাজ্ব আব্দুল মতিন

প্রকাশিত হয়েছে: মে - ৮ - ২০১৭ | ৯: ০৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 35 বার পঠিত

স্বাধীনতার পর বিশ্বনাথের সদর ইউনিয়নের ১ম চেয়ারম্যান হিসেবে আলহাজ্ব আব্দুল মতিন পর পর দু-বার নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন।
বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইতিহাসে স্বাধীনতার পর আলহাজ্ব আব্দুল মতিন ১ম ব্যক্তি হিসেবে পর পর দু-বার নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। তিনি  বিশ্বনাথ উপজেলার  সদর বিশ্বনাথ ইউনিয়নের চান্দশীর কাপন গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৩৭ সালের ২রা জুন জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মরহুম মাওলানা কাসিম আলী ও মাতার নাম  মরহুমা হালিমা ভানু ।
আলহাজ্ব আব্দুল মতিন সিলেট সরকারী মাদ্রাসা থেকে দাখিল  পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। লেখাপড়া শেষ করে সিলেট জেলার দক্ষিন সুরমার সিলাম জুনিয়র স্কুল এবং বিশ্বনাথে আলীয়া মাদ্রাসায়  দীর্ঘদিন সৎ ও নিষ্টার সাথে শিক্ষকতা পেশা চালিয়ে যান। আলহাজ্ব  আব্দুল মতিনের রয়েছে সুদীর্ঘ সামাজিক জীবন। একজন সৎ নিষ্টাবান ও পরোপকারী সামাজিক ব্যাক্তিত্ব হিসেবে তিনি সকল মহলের কাছে  অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি মানুষের নৈতিক শিক্ষা ও আর্থ সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে জনগণের মধ্যে শিক্ষার আলো , সামাজিক কাজ পেশা হিসেবে গ্রহন করেছিলেন । ব্যাক্তিগত জীবনে তার সৎ সহজ সরল জীবন-যাপন বর্তমান সময়ে সমাজ সেবায় এক ব্যাতিক্রম হিসেবেই সকলের কাছে প্রতিষ্টিত ।
জনাব আব্দুল মতিনের সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনে জনসেবা ও এলাকার কল্যানে রয়েছেন সম্পৃক্ত। সততা ও নিরপেক্ষতায় তার সুখ্যাতি রয়েছে । বিশ্বনাথ এলাকায় শিক্ষার সম্প্রসারন ,সমাজের উন্নয়ন ও মসজিদ প্রতিষ্টা সহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক  কাজে তার অবদান রয়েছে। ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বিশ্বনাথ  ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এবং ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। একজন সৎ ও ন্যায় পরায়ন চেয়ারম্যান হিসেবে বহু প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে ও ন্যায় ও সত্যের পথ বেচেঁ নিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন কে সম্মুন্নত রাখার চেষ্টা করেছেন।তিনি অত্যন্ত শিক্ষাদরদি মানুষ।

হাজি মফিজ আলী বালিকা  উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিশ্বনাথের হযরত ওমর ফারুক (রা) একাডেমীর প্রতিষ্টাতাদের একজন । প্রতিষ্টাকালীন সময় থেকে অদ্যাবধি এ দুটি প্রতিষ্টানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিশ্বনাথ কলেজ প্রতিষ্টার পর থেকে আমৃত্যু  পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারী ও সদস্য হিসেবে ,চান্দশীরকাপন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা কালীন থেকে আমৃত্যু  পর্যন্ত সভাপতি  হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিশ্বনাথ বায়তুন নাজাত জামে মসজিদ ও চান্দশীর কাপন জামে মসজিদ প্রতিষ্টাতার পর থেকে আমৃত্যু  পর্যন্ত মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করেন । সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য আহমেদ এ মালিক পাঠাগার এবং সিলেটস্থ খান বাহাদুর এহিয়া চৌধূরী সম্মাননা পদক এবং সরকার প্রদত্ত সাদা মনের মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
আলহাজ্ব  আব্দুল মতিন ব্যাক্তিগত জীবনেও ছিলেন সফল । ১৯৬১ সালে চনার পাড়া গ্রামের মরহুম আব্দুল গনি সাহেবের কন্যা সুফিয়া বেগমকে বিয়ে করেন।তার স্ত্রী ইন্তেকাল করলে পরে ১৯৭১ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন নিজ শ্যালিকা রুকিয়া বেগমকে । তিনি পাঁচ ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের সফল পিতা ছিলেন। ২০১০ সালে বিশ্বনাথের নন্দিত এই জনপ্রতিনিধি পৃথিবীর সকল মায়া ছেড়ে পরপাড়ে পাড়ি জমান।