১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মো. বশির উদ্দিন

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ - ১ - ২০১৮ | ৮: ৪৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 190 বার পঠিত

নিজেকে সবসময় সম্পৃক্ত রাখেন সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে। সিলেটের প্রখ্যাত জমিদার রাজা গিরীশ চন্দ্র ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জুন রাজা জি.সি. হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১২ খ্রিস্টাব্দে রাজা জি.সি. হাইস্কুলের ১২৫ বছর পূর্তি উৎসব পালন করা হয়। ৯ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী ১২৫ বছর পূর্তি উৎসব পালন ছিলো সিলেটের একটি ঐতিহাসিক উৎসব। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রাজা জিসি হাইস্কুলের ১২৫ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ছিলেন মোঃ বশীরুদ্দীন। বিশিষ্ট রম্যলেখক, শেকড় সন্ধানী ধ্যানী গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামালকে ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ২৯ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক শহীদ সোলেমান হলে এক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মো. বশীর উদ্দিন সৈয়দ মোস্তফা কামাল সংবর্ধনা পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-রাজনীতিবিদ-ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খানকে সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক সোলেমান হলে এক গণ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবেও বশীর উদ্ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ৭ জুলাই সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুনীর্তি প্রতিরোধ আন্দোলন-সিলেট আত্মপ্রকাশ করে। উক্ত সংগঠনের সদস্য সচিব হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

সিলেটের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ-সমাজসেবী-সাংবাদিক এহিয়া রেজা চৌধুরী নাগরিক শোক সভা বাস্তবায়ন কমিটির তিনি যুগ্ম সদস্য সচিব। এছাড়া এহিয়া রেজা চৌধুরীর জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত স্মরণিকা কমিটিরও আহবায়ক হচ্ছেন মো. বশির উদ্দিন। সিলেটের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, আইনজীবী মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ আশরাফ হোসেনকে সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়ার উদ্যোক্তাদের অন্যতম মো. বশির উদ্দিন এবং সংবর্ধনা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক। মো. বশির উদ্দিনের একটি প্রিয় বিষয় কৃষি। তার বিশ্বাস বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে হবে। এই ভাবনা থেকে তিনি নিজের গ্রাম শেখের গাঁওয়ে কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছিলেন। এই কর্মসূচীর আওতায় কৃষকদেরকে সংগঠিত করে গভীর নলকুপ স্থাপন করেন, তাদেরকে রোগ বালাই প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন, পরিকল্পিত চাষাবাদের কর্মসূচী হাতে নেন। ২০০০ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এ কর্মসূচী চলে। মো. বশীর উদ্দিন ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের জীবন সদস্য হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয়।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে নগরীর শিবগঞ্জের বিসমিল্লাহ মসজিদের মোতাওয়াল্লী হিসেবে ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মসজিদটি টিন শেডের ছিলো এখন পাকা মসজিদ এবং দিন দিন আরো উন্নত হচ্ছে। তিনি তার গ্রামের শেখের গাঁও পুরান জামে মসজিদের সাথেও সম্পৃক্ত। শহরে বসবাসের কারনে মসজিদের কোন সুনির্দিষ্ট পদে না থাকলেও মসজিদের প্রতিটি উন্নয়নের সাথে ঘনিষ্টভাবে জড়িত। মো. বশীরুদ্দীন ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে নিজ ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী ভাটিপাড়া গ্রামের প্রবাসী ইয়ারিছ আলীর কন্যা মোছাম্মত জাহানারা বেগমকে বিয়ে করেন। বর্তমানে স্ত্রী জাহানারা বেগমকে নিয়ে নগরীর শিবগঞ্জে বসবাস করছেন। তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা। পুত্র নাসির উদ্দীন রায়হান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করে বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। কন্যা আশরাফ সুলতানা যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তিনি যুক্তরাজ্যে উচ্চতর ডিপ্লোমা নিয়ে পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের একটি প্রজেক্টে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিক বশীর উদ্দিন ২০০৫, ২০১০ ও ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাজ্য সফর করেন। ২০১৫ খ্র্স্টিাব্দে ওমরা পালন করেন। এর আগে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে স্ত্রী জাহানারা বেগমকে নিয়ে পবিত্র হজ্ব পালন করেন। মো. বশীর উদ্দিন বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সম্মানিত হয়েছেন। ২০০৮ সালে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনায় আহমেদ এ মালিক পাঠাগার তাকে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করে এছাড়া সিলেটের অনলাইন সাংবাদিকতার নবম বর্ষপূর্তি উৎসবে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ১২ আগস্ট তাকে সিলেটের প্রথম অনলাইন দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও পদক প্রদান করা হয়।