৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মো.মুহিবুর রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি - ১২ - ২০১৭ | ৮: ৪১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 787 বার পঠিত

মুহিবুর রহমান মাত্র ২৯ বছর বয়সে  বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের ১ম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হচ্ছেন মো.মুহিবুর রহমান।তিনি  দৌলতপুর ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামে ১৯৫৬ সালের ১১ই আগষ্ট জন্মগ্রহন করেন । তার পিতার নাম  আলহাজ্ব কলমদর আলী ও মাতার নাম  লতিফা বিবি। মো. মুহিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষা স্থানীয় স্কুলে সম্পন্ন করে বিশ্বনাথের ঐতিহ্যবাহী রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন ।সেখানে  লেখাপড়া অবস্থায় পিতা কলমদর আলীর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের সুযোগে ১৯৬৮ সালে যুক্তরাজ্য গমন করেন।  মুহিবর রহমান ব্রিটেনে গিয়ে বেশ কিছুদিন লেখাপড়া করেন এবং এক সময় কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন।তিনি ব্রিটেনে নাগরিকত্ব লাভ  করলেও জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন স্বদেশে।

তরুন বয়স থেকে তিনি সমাজসেবায় নিজেকে জড়িত করেন।বিশ্বনাথের একঝাঁক তরুনদের নিয়ে গঠন করেন সমাজ সেবামূলক সংগঠন বিশ্বনাথ সংঘ ।সমাজসেবায় তার আগ্রহ দেখে বিশ্বনাথের সুশীল সমাজ ১৯৮৫ সালে দেশে প্রথমবারের মত অনুষ্টিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকে বিশ্বনাথে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করে এবং তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে  বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ।চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরই বিশ্বনাথে প্রথম বারের মত কলেজ প্রতিষ্টার উদ্যোগ গ্রহন করেন। বিশ্বনাথের সুশীল সমাজ ও প্রবাসীরা এগিয়ে আসলে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের কারিকোনা গ্রামস্থ বেলার হাওরের পাশে বিশ্বনাথ মহাবিদ্যালয় নামে একটি কলেজ প্রতিষ্টিত হয় । ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদকালীন সময়ে গ্রামীন অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্টান  প্রতিষ্টায় অসামান্য অবদান রাখেন ।

মুহিবুর রহমান    ১৯৯১ সালে  অনুষ্টিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট ২ (বিশ্বনাথ বালাগঞ্জ )আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১২,৩১২টি ভোট পান  ,২০০১ সালে অনুষ্টিত ৮ম  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে   জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এই একই আসনে অংশ নিয়ে ২৭,৯০৫ টি ভোট পান ।এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর পর জাতীয় পার্টি ছেড়ে তিনি আওয়ামীলীগে যোগদান করেন এবং ২০০৮ সালে অনুষ্টিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগে দলীয় মনোনয়ন চান ।তবে  তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের  আর্শিবাদ না থাকায় দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন মুহিবুর রহমান। ্এরপর ২০০৯ সালে এসে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে  আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং দ্বিতীয় বারের মত বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে  তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন এবং এক মাত্র  প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী মহাজোটের  ইয়াহহিয়া চৌধুরীর কাছে ২৯ হাজারের ও কিছু বেশী ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত হন ।মুহিবুর রহমান ব্যাক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও চার সন্তানের জনক ।

error: Content is protected !!