১লা ডিসেম্বর, ২০২১ ইং | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ড: মঞ্জুশ্রী চৌধুরী

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল - ২৯ - ২০১৭ | ৯: ৪৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 1109 বার পঠিত

সিলেটের প্রথম মহিলা হিসেবে বিশ্বনাথী পুত্রবধু ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরী পি.এইচ.ডি  ডিগ্রী অর্জন করেন।

বিশ্বনাথী পুত্রবধু ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরী সিলেটের প্রথম মহিলা হিসেবে রুপক সাংকেতিক নাটকের উপর পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করেন । তিনি ১৯২৩ সালে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম  স্বর্গীয় ক্ষীরোদ বিহারী সোম  এবং মাতার নাম   স্বর্গীয় মাধবী সোম । তার পিতা ছিলেন একজন উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ও সাহিত্য বোদ্বা আর  মাতা ছিলেন বিদূষী সাহিত্যিক ও সংগীতজ্ঞ ।

হবিগঞ্জের তৎকালীন গভর্ণমেন্ট গার্লস এম ই স্কুল থেকে ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরীর শিক্ষা জীবনের শুরু হয় ।তিনি শিলং এর লাবান গার্লস এম এ স্কুল ৫ম শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরিবারের সবাই গৌহাটি গার্লস হাইস্কুলে লেখাপড়া শুরু করেন।সেই স্কুলে থাকাকালীন সময়েই ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরী বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ম্যাগাজিনে লিখতে শুরু করেন। কটন কলেজে আই.এ পড়াকালীন সময়ে ড.মঞ্জশ্রী চৌধুরী রচিত কথিকা বউ কথা কও ,এক সজল সন্ধা ,ওরা দুই জন.মন মাঝি.ইত্যাদি লেখাগুলো কলকাতার বাতায়ন.দিপালী কথিকা সহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ।১৯৪১ সালে তিনি সিলেট এম.সি কলেজ থেকে ডিস্ট্রিংশণ সহ বি.এ পরিক্ষায় উর্ত্তীন হন।

১৯৪৫ সালে ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরী সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামের শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরীর সাথে বিবাহ বন্দনে আবদ্দ  হন। ১৯৪৭ সালে তিনি সিলেট গভর্ণমেন্ট গার্লস পাইলট হাই স্কুলে শিক্ষকতা পদে আতœনিয়োগ করেন।১৯৫২ -৫৩ সালে তিনি ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণী পেয়ে বি টি পরিক্ষায় উর্ত্তীন হন। ১৯৫৪ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সহকারী প্রধান শিক্ষিকার প্রতিযোগীতা মূলক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে চট্রগ্রামের ড.খায়স্তগীর গর্ভনমেন্ট গার্লস স্কুলে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষায় একই সঙ্গে দুটি বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে উর্ত্তীন হন।তখন আবার বদলী হলেন সিলেট গর্ভমেন্ট পাইলট গার্লস হাইস্কুলে । ১৯৬০ সালে তিনি প্রধান শিক্ষিকার পদে উন্নীত হন।

১৯৬২ সালে ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরীকে খুলনা ডিভিশনের সহকারী স্কুল ইন্সপেক্টর পদে নিযুক্ত করা হয়।এসময় মঞ্জুশ্রী চৌধুরী বাংলায় এম.এ পাশ করেন।এম.এড এ উচ্চতর ফাস্টক্লাস পাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই এ আর থেকে কলেরেডো বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভের উদ্দেশ্যে মনোনিত করে।১৯৬৩ সালে তিনি আবার বদলী হয়ে আসেন সিলেট গভর্ণমেন্ট পাইলট গার্লস হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষিকা হয়ে । ১৯৬৫ সালে তাকে আবার ময়মনসিংহে বিদ্যাময়ী গার্লস হাইস্কুলে বদলী করা হয়।এ স্কুলে তিনি প্রথম বিজ্ঞান বিভাগ চালু করেন। বদলীর একমাস পর ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ফর ওমেন এ প্রফেসর অব এডুকেশন পদে ডিপি আই মহোদয় মঞ্জুশ্রীকে নিযুক্ত দান করেন।

১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা শিক্ষা সম্প্রসারণ কেন্দ্রে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশেষজ্ঞের পদে মঞ্জুশ্রীকে নিয়োগ দান করা হয়। এসময় তিনি শিশু সাহিত্যের গ্রন্থপঞ্জি সম্পাদনা করেন। পাবলিক সার্ভিস কমিশনে বাংলার বিশেষজ্ঞ পদের নির্বাচনী পরীক্ষায় ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরী প্রথম বিশেষজ্ঞ নিযুক্ত হন।
ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরী ১৯৭২ সালের জানুয়ারী মাসে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি প্রথম :বাংলাদেশের পতাকা ”শীর্ষক একটি প্রতীকী ব্যঞ্জনাময় কথিকা লিখে বাংলাদেশ বেতারে লিখিত বক্তব্য সম্প্রচার করেছিলেন।তিনি ছিলেন পাঠ্য পুস্তকের অন্যতম প্রণেতা । ১৯৭৮ সালে ঢাকার বেগম বদরুন্নেছা সরকারী কলেজে বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা নিযুক্ত হন।আধুনিক চিন্তা চেতনায় সমৃদ্ব শিক্ষাভাবনায় তার রচিত প্রবন্দ্ব গুলো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বি.এড ও এম এড কোর্সেও গ্রন্থাবলীতে সুন্দর ভাবে সুবিন্যাস্ত রয়েছে ।

বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত সুশিক্ষক (৩য় সংস্করক) বাংলা শিক্ষন পদ্বতি ,শিক্ষার মনোবিজ্ঞানে কথা , শিক্ষার মানসিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ,শিশুর জীবন বিকাশ ইত্যাদি শিক্ষাক্ষেত্রে রেখে যাওয়া ড.মঞ্জুশ্রীর অতুলনীয় অবদানের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরীর গবেষনা গ্রন্ত রবীন্দ্রনাথের রুপক সাংকেতিক নাটক ,বাংলা একাডেমী প্রকাশ করে।১৯৭৮ সালে ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরী রবীন্দ্রনাথের রুপক সাংকেতিক নাটক লিখে বাংলাদেশে এ বিষয়ে পি.এইচ ডি লাভ করেন।ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরীর গল্প সংকলন জাগত যে ভালো. বিষকন্যা সোনার খাঁচা ,প্রানের মাঝে সুধা আছে ।বেগম পত্রিকায় প্রকাশিত তার উপন্যাস পেরিয়ে এলাম অন্তর্বিহীন পথ ,বাংলাদেশের সমাজ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে পটভূমিতে লিখিত । শিশুদের জন্য তার রচিত আমপাতা, জামপাতা, শিশু একাডেমী প্রকাশ করেছ্।ে
ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরীর তিন সন্তান / জ্যেষ্ট পুত্র প্রফেসর ডা:শুভাগত চৌধুরী,একমাত্র কন্যা ড.মধুশ্রী ভদ্র ও কনিষ্ট পুত্র ডা:অরুপ রতন চৌধুরী স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্টিত । ২০০৬ সালের ১১জুন সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে পরলোক গমন করেন বিশ্বনাথী পুত্রবধু ও বাঙ্গালী জাতির গর্ব ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরী।

error: Content is protected !!